ঢাকা থেকে খুলনা ট্রেনের সময়সূচী, স্টপেজ ও ভাড়ার তালিকা ২০২৬ | Dhaka to Khulna Train Schedule

সোর্স: eticket.railway.gov.bd (অফিসিয়াল) • হালনাগাদ জুলাই ২০২৬

ঢাকা থেকে খুলনা রুটে বর্তমানে তিনটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে — সুন্দরবন এক্সপ্রেস, চিত্রা এক্সপ্রেস এবং পদ্মা সেতু হয়ে নতুন চালু হওয়া জাহানাবাদ এক্সপ্রেস। নিচে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল টিকেটিং সিস্টেম থেকে সংগৃহীত হালনাগাদ সময়সূচী, বিরতি স্টেশন ও ভাড়ার তথ্য দেওয়া হলো।

ঢাকা টু খুলনা রুট বাংলাদেশ রেলওয়ের অন্যতম ব্যস্ত ও জনপ্রিয় রুট। পদ্মা সেতু রেললাইন চালু হওয়ার পর থেকে এই পথের যাত্রাসময় অনেকটাই কমে এসেছে, বিশেষ করে নতুন চালু হওয়া জাহানাবাদ এক্সপ্রেস (৮২৬) কাশিয়ানী জংশন হয়ে একেবারে ছোট রুটে মাত্র পৌনে ৪ ঘণ্টায় যাত্রা শেষ করছে। নিচে তিনটি ট্রেনের বিস্তারিত তথ্য ছক আকারে দেওয়া হলো। অন্যান্য রুটের সময়সূচী দেখতে ভিজিট করুন, খুলনা থেকে যশোর ট্রেনের সময়সূচী

অফিসিয়াল সকল রুটের সময়সূচী দেখতে ক্লিক করুন, অফিসিয়াল সকল রুটের ট্রেনের সময়সূচী

এক নজরে তিনটি ট্রেন

🌅

সুন্দরবন এক্সপ্রেস

নম্বর ৭২৬
ছাড়ে০৮:০০ AM
পৌঁছায়০৩:৪০ PM
বন্ধবুধবার
🌙

চিত্রা এক্সপ্রেস

নম্বর ৭৬৪
ছাড়ে০৭:৩০ PM
পৌঁছায়০৪:৪০ AM*
বন্ধরবিবার
🚄

জাহানাবাদ এক্সপ্রেস

নম্বর ৮২৬
ছাড়ে০৮:০০ PM
পৌঁছায়১১:৪৫ PM
বন্ধসোমবার

* পরদিন। জাহানাবাদ এক্সপ্রেস নতুন সংক্ষিপ্ত রুটে (কাশিয়ানী জংশন হয়ে) চলাচল করায় অন্য দুটি ট্রেনের চেয়ে কম সময়ে পৌঁছায়।

ঢাকা টু খুলনা আন্তঃনগর ট্রেনের সময়সূচী | Dhaka to Khulna Train Schedule

ট্রেনের নামছুটির দিনছাড়ার সময়পৌঁছানোর সময়ভ্রমণের সময়
সুন্দরবন এক্সপ্রেস (৭২৬)বুধবার08:00 AM03:40 PM৭ ঘণ্টা ৪০ মিনিট
চিত্রা এক্সপ্রেস (৭৬৪)রবিবার07:30 PM04:40 AM৯ ঘণ্টা ১০ মিনিট
জাহানাবাদ এক্সপ্রেস (৮২৬)সোমবার08:00 PM11:45 PM৩ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট

* রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে সময়সূচী যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে, তাই ভ্রমণের আগে অফিসিয়াল সাইটে একবার দেখে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

যাত্রাপথের বিরতি স্টেশনসমূহ

সুন্দরবন এক্সপ্রেস — পুরনো মূল রুট ধরে চলাচল করে:

ঢাকা কমলাপুর ভাঙ্গা জংশন ফরিদপুর রাজবাড়ী পাংশা কুষ্টিয়া পোড়াদহ আলমডাঙ্গা চুয়াডাঙ্গা দর্শনা হল্ট কোটচাঁদপুর মোবারকগঞ্জ যশোর নোয়াপাড়া দৌলতপুর খুলনা জংশন

জাহানাবাদ এক্সপ্রেস — পদ্মা সেতু হয়ে নতুন সংক্ষিপ্ত রুট:

ঢাকা কমলাপুর ভাঙ্গা জংশন কাশিয়ানী জংশন লোহাগড়া নড়াইল সিঙ্গিয়া জংশন নোয়াপাড়া খুলনা জংশন

চিত্রা এক্সপ্রেসও মূলত সুন্দরবন এক্সপ্রেসের মতো পুরনো মূল রুট অনুসরণ করে। বড় স্টেশনে (যেমন রাজবাড়ী, কাশিয়ানী) সাধারণত ৫-১০ মিনিট এবং ছোট স্টেশনে ১-২ মিনিট বিরতি দেওয়া হয়।

ঢাকা টু খুলনা ট্রেনের টিকিটের মূল্য | Ticket Price

তিনটি ট্রেনে আসন শ্রেণিভেদে ভাড়ার সামান্য পার্থক্য আছে। নিচে প্রতিটি ট্রেনের ভাড়ার তালিকা আলাদাভাবে দেওয়া হলো (২০২৬ সালের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ভ্যাটসহ):

সুন্দরবন এক্সপ্রেস (৭২৬)

আসন বিভাগটিকেটের মূল্য (ভ্যাট সহ)
শোভন চেয়ার৳ ৬২৫
স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার)৳ ১,১৯৬
এসি সিট৳ ১,৪৩২

চিত্রা এক্সপ্রেস (৭৬৪)

আসন বিভাগটিকেটের মূল্য (ভ্যাট সহ)
শোভন চেয়ার৳ ৬৮০
স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার)৳ ১,৩০০
এসি বার্থ৳ ২,৩৮৫

জাহানাবাদ এক্সপ্রেস (৮২৬)

আসন বিভাগটিকেটের মূল্য (ভ্যাট সহ)
শোভন চেয়ার৳ ৪৪৫
স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার)৳ ৮৫১
এসি সিট৳ ১,০১৮
মনে রাখবেন: অনলাইন ও কাউন্টার — দুই জায়গাতেই ভাড়া একই থাকে, তবে অনলাইন বুকিংয়ে সামান্য পেমেন্ট গেটওয়ে চার্জ যুক্ত হতে পারে। জাহানাবাদ এক্সপ্রেসের ভাড়া কম কারণ এটি সংক্ষিপ্ত রুটে চলে।

টিকিট বুকিং এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

টিকিট বুকিংয়ের উপায়

  • অনলাইন বুকিং: eticket.railway.gov.bd থেকে
  • স্টেশন কাউন্টার: কমলাপুর বা খুলনা রেলওয়ে স্টেশন থেকে
  • মোবাইল অ্যাপ: Rail Sheba অ্যাপ থেকেও বুকিং করা যায়

গুরুত্বপূর্ণ নোট

  • যাত্রার কমপক্ষে ৩-৪ দিন আগে টিকিট বুকিং করা ভালো, কারণ চাহিদা বেশি থাকে
  • ট্রেন ছাড়ার কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে উপস্থিত হওয়া বাধ্যতামূলক
  • অনলাইন টিকিটের প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সাথে রাখুন
  • নতুন চালু হওয়া জাহানাবাদ এক্সপ্রেসের সময়সূচী প্রাথমিক পর্যায়ে সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে, তাই বুকিংয়ের আগে একবার যাচাই করে নিন

উপরের তথ্যগুলি বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের ভিত্তিতে প্রদান করা হয়েছে। আরও বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন eticket.railway.gov.bd খুলনা থেকে অন্য কোনো রুটের সময়সূচী জানতে দেখুন খুলনা টু যশোর ট্রেনের সময়সূচী অথবা সকল ট্রেনের সময়সূচী বিভাগ

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

ঢাকা থেকে খুলনা যেতে কত সময় লাগে?

সুন্দরবন এক্সপ্রেসে প্রায় ৭ ঘণ্টা ৪০ মিনিট, চিত্রা এক্সপ্রেসে প্রায় ৯ ঘণ্টা ১০ মিনিট এবং নতুন সংক্ষিপ্ত রুটের জাহানাবাদ এক্সপ্রেসে মাত্র ৩ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট সময় লাগে।

ঢাকা টু খুলনা রুটের সবচেয়ে কম ভাড়ার টিকিট কোনটি?

জাহানাবাদ এক্সপ্রেসের শোভন চেয়ার সবচেয়ে কম ভাড়ার আসন, মূল্য ৳৪৪৫। সুন্দরবন এক্সপ্রেসের শোভন চেয়ার ৳৬২৫ এবং চিত্রা এক্সপ্রেসের ৳৬৮০।

ঢাকা টু খুলনা এসি টিকিটের দাম কত?

সুন্দরবন এক্সপ্রেসের এসি সিট ৳১,৪৩২, চিত্রা এক্সপ্রেসের এসি বার্থ ৳২,৩৮৫ এবং জাহানাবাদ এক্সপ্রেসের এসি সিট ৳১,০১৮।

জাহানাবাদ এক্সপ্রেস কোন রুট দিয়ে চলাচল করে?

জাহানাবাদ এক্সপ্রেস পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গা জংশন, কাশিয়ানী জংশন, লোহাগড়া, নড়াইল, সিঙ্গিয়া জংশন ও নোয়াপাড়া হয়ে খুলনায় পৌঁছায় — এটি অন্য দুটি ট্রেনের তুলনায় নতুন ও সংক্ষিপ্ত রুট।

সুন্দরবন ও জাহানাবাদ এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক বন্ধ কোন দিন?

সুন্দরবন এক্সপ্রেস প্রতি বুধবার, চিত্রা এক্সপ্রেস প্রতি রবিবার এবং জাহানাবাদ এক্সপ্রেস প্রতি সোমবার বন্ধ থাকে।

চিত্রা এক্সপ্রেস কখন ঢাকা থেকে ছাড়ে?

চিত্রা এক্সপ্রেস (৭৬৪) রাত ০৭:৩০ মিনিটে ঢাকা ছাড়ে এবং পরদিন ভোর ০৪:৪০ মিনিটে খুলনায় পৌঁছায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button