
Ojur Niyom | কিভাবে সঠিকভাবে ওযু করবেন? অজু করার নিয়ম
🌙 আপনি কিভাবে সঠিকভাবে ওযু করতে পারেন? ওজু বা ধোয়া এবং পরিষ্কার করার আচার যা নামাজের আগে সম্পন্ন হয়, মুসলিম বিশ্বাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। আমরা আপনাকে এই গুরুত্বপূর্ণ এবং শুদ্ধ অজু করণের প্রতিটি দিকের মাধ্যমে ধাপে ধাপে গাইড করব, যাতে আপনি আপনার নামাজের সময়ের আগে নিজে থেকে অজু করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে পারেন।
🕌 অজুর ফরজ কয়টি ও কি কি?
- সমস্ত মুখ ভালভাবে ধৌত করা।
- দুই হাতের কনুইসহ ভালভাবে ধৌত করা।
- মাথা চার ভাগের এক ভাগ মাসেহ্ করা।
- দুই পায়ের টাকনুসহ ধৌত করা।
⚠️ অজু ভঙ্গের কারণ (৭ টি)
- মূত্র ত্যগের রাস্তা দিয়ে কিছু নির্গত হলে।
- মুখ ভরে বমি হলে।
- শরীরের ক্ষতস্থান হতে কোন প্রকার রক্ত বা পুঁজ বের হওয়া।
- থুতুর সাথে সমান ভাবে রক্ত বের হওয়া।
- শুয়ে অথবা হেলান দিয়ে ঘুমালে।
- মাতাল অথবা অচেতন হলে।
- নামাজে উচ্চ স্বরে হাসলে। নামাজ ও অজু দুটোই নষ্ট
📿 অজুর সুন্নাত (১৪ টি)
- নিয়ত করা।
- বিসমিল্লাহ বলে ওযু শুরু করা।
- হাতের আঙ্গুলগুলো খিলাল করা।
- উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত ধৌত করা।
- মিসওয়াক করা।
- ৩ বার কুলি করা।
- নাকে পানি দেওয়া তিনবার।
- পুরো মুখমন্ডল তিনবার ধৌত করা।
- দু হাত কনুই সহ তিনবার ধোওয়া।
- সমস্ত মাথা একবার মাসেহ করা।
- উভয় পা টাখনু সহ তিনবার ধৌত করা।
- পায়ের আঙ্গুলগুলো খিলাল করা।
- এক অঙ্গ শুকানোর পূর্বে অন্য অঙ্গ ধৌত করা।
- ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ওযুর কাজ গুলো সম্পূর্ন করা।
🧼 অজু করার নিয়ম (ফরয ও মুস্তাহাব)
📌 ফরয পদ্ধতি
- সমস্ত মুখমণ্ডল একবার ধৌত করা (গড়গড়া ও নাক)
- কনুই পর্যন্ত হাত একবার ধৌত করা
- সমস্ত মাথা একবার মাসেহ (কানসহ)
- টাকনু পর্যন্ত পা একবার ধৌত করা
- ক্রমধারা বজায় রাখা
- পরম্পরা রক্ষা (মাঝে দীর্ঘ বিরতি না দেওয়া)
✨ মুস্তাহাব (সুন্নাহ) পদ্ধতি
- নিয়ত (অন্তরে)
- বিসমিল্লাহ বলা
- কব্জি পর্যন্ত হাত ৩ বার
- ৩ বার গড়গড়া কুলি, নাকে পানি
- মুখমণ্ডল ৩ বার ধোয়া
- কনুই পর্যন্ত হাত ৩ বার
- মাথা ও কান মাসেহ (১ বার)
- পায়ের টাখনু সহ ৩ বার ধোয়া
📸 চিত্র সহ অজু দেখুন
🤲 অজুর গুরুত্বপূর্ণ দোয়া
অর্থ: তোমাদের যে ব্যক্তি পূর্ণরূপে উযূ করে এই দোয়া পাঠ করবে, ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ ﷺ তাঁর গোলাম ও রাসুল।’ তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে যাবে এবং যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। (মুসলিম ২৩৪)
অযু শেষে কালেমা শাহাদাৎ পড়া মুস্তাহাব
‘আশহাদু আল-লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা- শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহ’
(অর্থ- আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই। তিনি এক, অদ্বিতীয় এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাঃ) তাহাঁর বান্দা ও প্রেরিত রাসূল)।
❓ সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
কিভাবে সঠিকভাবে ওযু করবেন?
অজু করার দোয়া কি?
অজুর শুরুতে কি বলতে হয়?
ওযুর শেষে কি দোয়া পড়তে হয়?
ওযুর নিয়ত কিভাবে করতে হয়?
ওযু করার সময় কি বলতে হয়?
ওযুর পর কি পড়তে হয়?
ওযুর পর কিভাবে দুআ করতে হয়?
চুমু খেলে কি ওযু ভেঙ্গে যায়?
ওযুর পর শাহাদাত বলতে হয় কি?
ওযু করতে কত সময় লাগে?
ওযু ছাড়া দুআ করা যাবে কি?
ওযুর পর কিছু বলতে হয় কি?
ওযুর পর দুআ করার সওয়াব কি?
কর্মক্ষেত্রে ওযু কিভাবে করতে হয়?
অজুর ফরজ কয়টি ও কি কি?
অজু ভঙ্গের কারণ কয়টি ও কি কি?
অজুর সুন্নাত কয়টি ও কি কি?
⏳ সর্বশেষ হালনাগাদ: ২০২৬ · সম্পূর্ণ অজু গাইড