বিজ্ঞানসম্মত ও সহজ পদ্ধতিতে তাজবীদ সহ কুরআন শিক্ষা। ১২টি বিশেষ সাংকেতিক চিহ্নের মাধ্যমে সহীহ শুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত করুন।
চিহ্নগুলোর বিস্তারিত বিবরণ পড়তে যেকোনো চিহ্নের উপরে ক্লিক করুন।
যাদের চোখের দৃষ্টি কিছুটা দুর্বল অথবা যারা বড় অক্ষরে কুরআন পড়তে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তাদের জন্য এই কুরআনের আরবি ফন্টগুলো বিশেষভাবে বড় এবং স্পষ্টভাবে প্রিন্ট করা হয়েছে। প্রতিটি হরফ সহজে চেনা যায় এবং সাবলীলভাবে তিলাওয়াত করা সম্ভব।
তাজবীদের জটিল ব্যাকরণ না শিখেও এই ১২টি বিশেষ চিহ্ন আপনাকে সহীহ তিলাওয়াত শেখাবে। এটি মূলত আপনার পড়ার জন্য একটি স্মার্ট ‘রোড ম্যাপ’, যা আপনাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বলে দেবে—কোথায় থামবেন, কতটুকু টানবেন আর কোথায় গুন্নাহ করবেন। সাধারণ মানুষও এই চিহ্নগুলো অনুসরণ করে খুব সহজে নির্ভুল, সাবলীল ও শ্রুতিমধুর তিলাওয়াত আয়ত্ত করতে পারেন। এটি আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কুরআন শিক্ষার এক অনন্য সংযোজন
নিজে নিজে কুরআন শিখতে বা তাজবীদের নিয়মগুলো বুঝতে যদি কোনো অসুবিধা হয়, তবে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের তৈরি ভিডিও ক্লাসগুলো হতে পারে আপনার সেরা গাইড। এই কোর্সে প্রতিটি নিয়ম, মাখরাজ এবং সাঙ্কেতিক চিহ্নের ব্যবহার খুব সহজ ও সাবলীলভাবে হাতে-কলমে শেখানো হয়েছে। ঘরে বসেই নিজের সুবিধামতো সময়ে ভিডিওগুলো দেখে আপনি ধাপে ধাপে বিশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াত আয়ত্ত করতে পারবেন, ইনশাআল্লাহ।
কুরআন শব্দের বাংলা অর্থ হলো ‘পাঠ করা’ বা ‘যা পড়া হয়’। কুরআন শরীফ হলো আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উপর নাযিলকৃত সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব।
কুরআন আরবি শব্দ ‘قرأ’ (ক্বারাআ) থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘পড়া’ বা ‘আবৃত্তি করা’। কুরআন হলো মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ এবং ইসলামের মূল ভিত্তি।
কারিয়ানা কুরআনুম মাজীদ — ৩০ পারা সম্পূর্ণ কুরআন, বাংলা অর্থসহ, তাজবীদ ও ১২টি সাংকেতিক চিহ্নসহ — এর মূল্য মাত্র ৳১০০০। এটি বাংলাদেশে ডেলিভারি সহ অর্ডার করা যায়।
কুরআন শব্দের আভিধানিক অর্থ পাঠ করা, সংগ্রহ করা বা একত্র করা। পারিভাষিক অর্থে কুরআন হলো আল্লাহর বাণী যা মুহাম্মদ (সা.)-এর উপর ২৩ বছরে নাযিল হয়েছে এবং যা সূরা ফাতিহা দিয়ে শুরু এবং সূরা নাস দিয়ে শেষ।
কুরআনের পূর্ণ নাম ‘আল-কুরআনুল কারীম’। এর পূর্ণ অর্থ হলো ‘সম্মানিত পাঠ্য গ্রন্থ’। কুরআন মোট ১১৪টি সূরা, ৬২৩৬টি আয়াত, ৩০টি পারা এবং ৫৫৮ রুকুতে বিভক্ত।
পবিত্র কুরআন প্রায় ১৪শত বছরেরও বেশি সময় আগে ৬১০ খ্রিস্টাব্দে নাযিল হওয়া শুরু হয়। রমজান মাসের লাইলাতুল ক্বদরে সর্বপ্রথম সূরা আলাক্বের প্রথম ৫ আয়াত নাযিল হয় এবং প্রায় ২৩ বছর ধরে সম্পূর্ণ কুরআন নাযিল সম্পন্ন হয়।
কুরআনের প্রকৃত ও সর্বাধিক পরিচিত নাম হলো ‘আল-কুরআন’। তবে কুরআনে নিজেকে বিভিন্ন নামে উল্লেখ করা হয়েছে যেমন — আল-ফুরকান (সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী), আল-কিতাব (গ্রন্থ), আয-যিকর (উপদেশ/স্মারক), আন-নূর (আলো)।
রমজান মাসের ১৭ তারিখ ‘নুযূলে কুরআন দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। এই দিনে বদর যুদ্ধও সংঘটিত হয়েছিল। অনেক মুসলিম দেশে এই দিনটি বিশেষ গুরুত্বের সাথে পালন করা হয়।
কুরআনের প্রথম অনুবাদ ফার্সি ভাষায় করেন সালমান আল-ফারসি (রা.)। তিনি সূরা ফাতিহা ফার্সি ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন। পরবর্তীতে ল্যাটিন ভাষায় প্রথম সম্পূর্ণ অনুবাদ হয় ১১৪৩ খ্রিস্টাব্দে রবার্ট অফ কেটনের মাধ্যমে।
কুরআন মূলত আরবি ভাষায় অবতীর্ণ। তবে আজ পর্যন্ত বিশ্বের ১১২টিরও বেশি ভাষায় কুরআনের অনুবাদ হয়েছে। বাংলা, ইংরেজি, উর্দু, ফার্সি, তুর্কি, মালয়, ইন্দোনেশিয়ান, ফ্রেঞ্চসহ অনেক ভাষায় এর অনুবাদ পাওয়া যায়।
সর্বপ্রথম পূর্ণ কুরআনের বাংলা অনুবাদ করেন ভাই গিরিশচন্দ্র সেন, ১৮৮৬ সালে। তিনি একজন ব্রাহ্ম ধর্মাবলম্বী হয়েও কুরআনের সম্পূর্ণ বঙ্গানুবাদ সম্পন্ন করেন এবং তাঁকে ‘ভাই গিরিশচন্দ্র’ উপাধি দেওয়া হয়।
কুরআনে ‘ইয়াওম’ (يوم) অর্থাৎ ‘দিন’ শব্দটি ৩৬৫ বার এসেছে, যা এক বছরের দিনের সংখ্যার সাথে মিলে যায়। এটি কুরআনের অনেক গাণিতিক মু’জিযার (অলৌকিকতা) মধ্যে একটি।
কুরআনে ‘ইনসান’ (انسان) বা ‘বাশার’ (بشر) অর্থাৎ ‘মানুষ’ শব্দটি ৬৫ বার এসেছে। আবার ‘নাস’ (الناس) অর্থাৎ মানবজাতি শব্দটি ২৪১ বার এসেছে।
সূরা মুহাম্মদ (৪৭:৪) আয়াতে আল্লাহ যুদ্ধক্ষেত্রের নির্দেশনা দিয়েছেন। এই আয়াতে বন্দীদের সাথে আচরণের কথা বলা হয়েছে — হয় অনুগ্রহ হিসেবে মুক্তি অথবা মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া। এটি একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটের আয়াত।
পবিত্র কুরআনে মোট ১১৪টি সূরা, ৬২৩৬টি আয়াত (মতান্তরে ৬৬৬৬), ৩০টি পারা, ৫৫৮টি রুকু, এবং ৭টি মানজিল আছে। সবচেয়ে বড় সূরা হলো সূরা বাকারাহ (২৮৬ আয়াত) এবং সবচেয়ে ছোট সূরা হলো সূরা কাউসার (৩ আয়াত)।