দরসে ক্বুর-আন

 প্রত্যেক কাজে “বিসমিল্লাহ” পাঠের গুরুত্ত
আ’উযুবিল্লাহিমিনাশ শাইত্বনির রাজীম- 
বিতাড়িত শয়তানের ধোকা থেকে আল্লহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
 বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম- 
পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লহর নামে শুরু করছি।
জাহিলিয়াতের যুগে লোকদের অভ্যাস ছিল, তারা তাদের প্রত্যেক কজ উপাস্য দেব-দেবীর নামে শুরু করত। এ প্রথা রহিত করার জন্য হযরত জিব্রাইল (আঃ) পবিত্র ক্বুরআ-নের সর্বপ্রথম যে আয়াত নিয়ে এসেছিলেন, তাতে আল্লহর নামে ক্বুরআ-ন তিলাওয়াত আরাম্ভ করার আদেশ দেয়া হয়েছে। যথা “ইকরা বিসমি রব্বিকা” পাঠ করুন আপনার প্রভুর নামে। স্বয়ং রসূলে করিম (ছঃ) প্রথমে প্রত্যেক কাজ বিসমিল্লাহ বলে আরাম্ভ করতেন এবং কিছু লিখতে গেলেও এ কথা প্রথমে লিখতেন। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম অবতীর্ণ হওয়ার পর সর্বকালের জন্য বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম বলে শুরু করার নিয়ম প্রবর্তিত হয়েছে। আপনারা নিশ্চয় জানে “বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম” ক্বুরআ-নের সূরা নামলের একটি আয়াতের অংশ। অনেকের মতে সূরা ফাতিহার প্রথম আয়াত। ক্ব্ররআ-ন শারীফের বিভিন্ন স্থানে উপদেশ রয়েছে যে, প্রত্যেক কাজ বিসমিল্লাহ বলে আরাম্ভ করা।
রসূল (ছঃ)  বলেছেন, “ যে কাজ বিসমিল্লাহ ব্যাতীত আরাম্ভ  করা হয়, তাতে কোন বরকত থাকেনা।” হাদীসে এরশাদ আছে, ঘরের দরজা বন্ধ করতে বিসমিল্লাহ বলেবে, বাতি নিভাতেও বিসমিল্লাহ বলেবে, পাত্র আবৃত করতেও বিসমিল্লাহ বলবে। কোন কিছু খেতে, পানি পান করতে, অজু করতে, সওয়ারীতে আরোহন করতে এবং তা থেকে অবরতণকালেও বিসমিল্লাহ বলার নির্দেশ ক্বুরআ-ন হাদীসে বার বার উল্লেখ করা হয়েছে।

কিভাবে আমরা বিসমিল্লাহ কে বর্জন করছি । খানার মজলিসে যদি কোন চীপ গেষ্ট খাকেন, তিনার জন্য সবাই অপেক্ষা করতে থাকেন। তিনি সাধারনত এ ভাবেই বলে থাকেন, শুরু করুন। অথচ তিনি যদি আমাদের মহান নেতা হযরত রসূলে আকরাম (ছঃ) এর শিক্ষায়া শিক্ষিত হতেন, তাহলে কথাটি এভাবে বলতেন সকলে “বিসমিল্লাহ “ বলুন। এমন কোন কাজ নেই যার আরম্ভে বিসমিল্লাহ বলার প্রয়জনীয়তা নেই।পৃথিবীতে যত হালাল ও জায়েজ কাজ রয়েছে তার সকল কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলতে হবেই হবে।

বিসমিল্লাহতে ১৯ টি হরফ বা অক্ষর আছে। হাদীস শারীফে উল্লেখ রহিয়াছে যে, ক্বুরআ-ন শারীফের একটি হরফ পড়লে তার ১০ টি নেকি হয়, সে মতে ১৯*১০=১৯০ টি নেকি অর্থাৎ একবার বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম পাঠ করলে ১৯০ টি নেকি পাওয়া যায়। আমরা দৈনিক শত-সহস্র কাজ করে থাকি। প্রত্যেকটি কাজের শুরুতেই যদি আমরা বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম বলতে পারি তাহলে আমাদের আমলনামায় অজস্র নেকি আল্লহরব্বুল দান করবেন।

Back to top button